নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | 30 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং তাঁর সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ছেলে, দুই নাতি ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে। নিজের ও দুই নাতনীর নিরাপত্তা চেয়ে বালিয়াকান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কুলসুম বেগম নামের ওই বৃদ্ধা।
কুলসুম বেগম বালিয়াকান্দি সদরের ওয়াপদা এলাকার মৃত পরশ উল্লাহর স্ত্রী। গত ১১ সেপ্টেম্বর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
অভিযোগে কুলসুম বেগম উল্লেখ করেন, প্রায় ৪০ বছর আগে তাঁর একমাত্র ছেলে ইমান আলী সেখ তাঁকে নিয়মিত মারধর ও প্রাণনাশের চেষ্টা করতেন। একপর্যায়ে বাড়িতে বসবাস করতে না পেরে নিজের নামে থাকা ৪৬ শতাংশ জমিতে দুই নাতনী শান্তা ও ফারজানাকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ওই জমির বিএস খতিয়ান নম্বর ৫৫৭ এবং এসএ রেকর্ড তাঁর নিজের নামে রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
বৃদ্ধার অভিযোগ, ছেলে ও নাতিরা নিয়মিত কোনো কাজ করেন না এবং তাঁকে ভরণপোষণও দেন না। বরং চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়। একইভাবে তাঁর দুই নাতনীর কাছ থেকেও সংসারের অভাব-অনটন ও সন্তানের চিকিৎসার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কুলসুম বেগম আরও অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীর জীবদ্দশায় কষ্ট করে গড়ে তোলা সম্পত্তির অধিকাংশই ছেলে ও নাতিরা বিক্রি করে দিয়েছেন। তাঁকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জমি বিক্রি করে টাকা নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর ভোগদখলে থাকা বসতভিটায় ৪৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশ জমি শেষবারের মতো আর্থিক সহায়তার কথা বলে তাঁর দুই নাতনী ফারজানা আক্তার ও শান্তার নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। ওই জমির বিনিময়ে পাওয়া অর্থ তাঁর ছেলে ইমান আলী, নাতি মিলন সেখ ও ইমরান সেখ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন কুলসুম বেগম।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নাতি মিলন সেখ মাদকের টাকা জোগাড়ের উদ্দেশ্যে ফারজানা আক্তারের নামে থাকা জমিতে নির্মিত একটি বসতঘর বিক্রি করতে যান। এ সময় কুলসুম বেগম ও তাঁর দুই নাতনী ঘরটি বিক্রি না করার অনুরোধ করলে মিলন সেখ তাঁকে বুকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ইমরান সেখ একটি ধারালো দা নিয়ে তাঁদের দিকে এগিয়ে আসেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগেও হুমকি ও মারধরের ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে ২০১৬ সালে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন কুলসুম বেগম। অভিযোগে ওই জিডির নম্বর ৭৩২ উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি তাঁর নামে রেকর্ডীয় ও ভোগদখলীয় সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এ-সংক্রান্ত মামলার নোটিশ গত ৮ সেপ্টেম্বর আদালত থেকে তাঁর ও দুই নাতনীর নামে পাঠানো হয়েছে বলে জানান কুলসুম বেগম।
সর্বশেষ গত দুই দিন ধরে এবং ১১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে মিলন সেখ তাঁর পুকুরে মাছ ধরে এবং ইমরান সেখকে সেখানে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বৃদ্ধা। প্রাণনাশের হুমকির কারণে নিজের সম্পত্তিতেও যেতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
কুলসুম বেগমের আশঙ্কা, ছেলে ও দুই নাতির উল্লেখযোগ্য আয়-রোজগার না থাকায় এবং তিনি জীবিত থাকায় সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তাঁকে যেকোনো সময় হামলা করা হতে পারে। এ কারণে নিজের ও দুই নাতনীর জীবন এবং সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, বৃদ্ধার অভিযোগের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একজন এস আই (উপ পরিদর্শক) কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।