মাসিক বা ঋতুস্রাব প্রতিটি প্রজননযোগ্য মেয়ের জীবনের একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
তবে অনেক সময়ই মেয়েরা শারীরিক অস্বস্তি, মানসিক চাপ এবং স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন
সচেতনতা ও সঠিক যত্নের অভাবে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ জন মেয়ের মধ্যে প্রায় ৮ জনই
মাসিককালে কোনো না কোনো জটিলতার মুখোমুখি হন।
- তীব্র ব্যথা (ডিসমেনোরিয়া) — নিচের পেট ও কোমরে ক্র্যাম্প ও অস্বস্তি।
- অনিয়মিত মাসিক চক্র বা অতিরিক্ত রক্তপাত।
- হরমোন ভারসাম্যহীনতা থেকে ক্লান্তি, মাথাব্যথা বা বমিভাব।
- স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সংক্রমণ বা প্রদাহের ঝুঁকি।
২. প্রধান কারণ
গবেষণা বলছে, সামাজিক ট্যাবু, স্যানিটারি সুবিধার অভাব, অপুষ্টি ও মানসিক চাপ
মাসিককালীন জটিলতা বাড়িয়ে তোলে।
বিশেষত, স্কুলগামী মেয়েদের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি ও সঠিক পরামর্শের অভাব
এই সমস্যা আরও তীব্র করে।
আরও পড়ুন : ডেঙ্গুতে আবারও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা
আরও পড়ুন : মেঘনায় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন
আরও পড়ুন : সুস্থ জীবন মানেই সুন্দর সমাজ — নিয়মিত অভ্যাসে বদলে দিন নিজের স্বাস্থ্যচিত্র
৩. করণীয় ও প্রতিরোধ
- সচেতনতা বৃদ্ধি: মেয়েদের ও অভিভাবকদের মাসিক সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা দিতে হবে।
- পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা: স্যানিটারি প্যাড বা কাপ ব্যবহার করে ৪–৬ ঘণ্টা পরপর পরিবর্তন করা উচিত।
- সুষম খাদ্যাভ্যাস: সবজি, ফল, দুধ, বাদাম ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করতে হবে।
- হালকা ব্যায়াম: যোগব্যায়াম, হাঁটা ও শ্বাসপ্রশ্বাস অনুশীলন ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
- চিকিৎসা পরামর্শ: অতিরিক্ত ব্যথা বা অনিয়মিত চক্র থাকলে গাইনোকলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।
- মানসিক সহায়তা: পরিবার ও বন্ধুদের সমর্থন মানসিক চাপ কমায়।
৪. গবেষণার সুপারিশ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাসিক স্বাস্থ্যকে
“মানবাধিকারের অংশ” হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
এজন্য স্কুলে স্বাস্থ্যবিষয়ক শিক্ষা, কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা ও
সাশ্রয়ী স্যানিটারি পণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
✍️ স্বাস্থ্য ডেস্ক | SCSC News #SCSCNEWS