ডেস্ক রিপোর্ট | মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 75 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

দীর্ঘ এক দশক পর আবারও আলোচনায় এসেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলা। মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতির অংশ হিসেবে আদালত তিনজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন, যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তার দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আদালত এই ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। জানা গেছে, তারা সবাই অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, তনুর ব্যবহৃত কিছু কাপড় থেকে আগেই তিনজনের ডিএনএ প্রোফাইল সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু এতদিন সেই ডিএনএগুলোর সঙ্গে কোনো সন্দেহভাজনের মিলিয়ে দেখা হয়নি। এখন আদালতের নির্দেশে সেই মিল খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে, যা মামলার দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে সহায়ক হতে পারে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরবর্তী তারিখে আদালতে তদন্তের আরও অগ্রগতি তুলে ধরা হবে। এই নির্দেশনার ফলে তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে আদালতে উপস্থিত হন তনুর বাবা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের হত্যার বিচার দাবি করে আসছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত দশ বছর ধরে তিনি ন্যায়বিচারের আশায় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন, কিন্তু এখনো বিচার পাননি। তিনি দ্রুত এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি শেষে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন তনু। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর তার বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত করলেও এতদিন মামলার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে মামলাটি একাধিকবার তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে এবং বর্তমানে এটি তদন্ত করছে পিবিআই। নতুন করে ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ আসায় দীর্ঘদিনের এই আলোচিত মামলায় ন্যায়বিচারের আশায় নতুন করে আলো জ্বলেছে।