নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 403 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বিশ্বব্যাপী চলতি ফ্লু মৌসুম এবার ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্লু ভাইরাসের একটি নতুন মিউটেটেড বা পরিবর্তিত ধরন এই পরিস্থিতির জন্য আংশিকভাবে দায়ী।
জাপান ও যুক্তরাজ্যে ফ্লু সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট বর্তমানে বিশ্বের সব মহাদেশেই শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গত কয়েক বছরে মানুষ এই ভাইরাসের সংস্পর্শে কম আসায় স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা সংক্রমণ দ্রুত ছড়ানোর অন্যতম কারণ।
ফ্লু ভাইরাস নিয়মিতই রূপ পরিবর্তন করে। বিজ্ঞানীরা এসব পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে ভ্যাকসিন হালনাগাদ করেন। তবে এবার H3N2 মৌসুমি ফ্লুর মধ্যে সাতটি উল্লেখযোগ্য নতুন মিউটেশন শনাক্ত হয়েছে, যার ফলে ভাইরাসটির বিস্তার অনেক দ্রুত হচ্ছে।
কেমব্রিজভিত্তিক প্যাথোজেন ইভোলিউশন সেন্টারের এক শীর্ষ গবেষক জানান,
“এই ভ্যারিয়েন্টটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।”
H3N2-এর নতুন এই ধরন, যাকে ‘সাবক্লেড কে’ বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানুষের মধ্যে খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে এর বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম।
যদিও এর উপসর্গ অন্যান্য ফ্লুর চেয়ে খুব বেশি মারাত্মক নাও হতে পারে, তবুও সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারে এবং বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
বিশ্বখ্যাত ইনফ্লুয়েঞ্জা গবেষণা কেন্দ্রের এক পরিচালক বলেন,
“ভাইরাসটির আচরণ অস্বাভাবিক। এটি আমাদের উদ্বিগ্ন করছে, যদিও আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো হয়নি।”
সর্দি: ধীরে শুরু হয়, নাক ও গলা বেশি আক্রান্ত
ফ্লু: হঠাৎ জ্বর, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা
কোভিড: ফ্লুর মতো উপসর্গের সঙ্গে স্বাদ বা গন্ধ না পাওয়া, তীব্র গলা ব্যথা ও ডায়রিয়া
ফ্লু ভ্যাকসিন নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ
ভ্যাকসিন পুরোপুরি মিল না হলেও এটি রোগের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে
নিয়মিত সাবান ও কুসুম গরম পানিতে হাত ধোয়া
কাশি বা হাঁচির সময় টিস্যু ব্যবহার
অসুস্থ হলে বাড়িতে থাকা
প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা
স্বাস্থ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির এক কর্মকর্তা SCSCNEWS–কে বলেন,
“ব্যক্তিগত সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই সংক্রমণ ঠেকানোর সবচেয়ে বড় উপায়।”