| বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | 24 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সুস্থ থাকার জন্য অনেকেই জিমে যাওয়া কিংবা কঠিন ব্যায়াম করার কথা ভাবেন। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে সবার পক্ষে নিয়মিত জিমে যাওয়া সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিদিনের হাঁটাই হতে পারে শরীরকে সক্রিয় রাখার সহজ উপায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ থেকে ৩০০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম করা উচিত। অর্থাৎ সপ্তাহে পাঁচ দিন প্রতিদিন ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটলে ন্যূনতম ১৫০ মিনিটের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব।
নিয়মিত হাঁটলে শরীরে কী উপকার হয়?
হাঁটা শরীরের একটি সহজ অ্যারোবিক ব্যায়াম। নিয়মিত হাঁটলে হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ভালো রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়। পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তে শর্করার মাত্রা ব্যবস্থাপনা এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা হৃদ্রোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। হাঁটা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। নিয়মিত শরীরচর্চা উদ্বেগ ও বিষণ্নতার উপসর্গ কমাতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
কীভাবে হাঁটবেন?
হাঁটার সময় এমন গতি বজায় রাখা ভালো, যাতে কথা বলা যায়, কিন্তু একটানা গান গাওয়া কঠিন হয়। যারা দীর্ঘদিন হাঁটেননি, তাঁরা প্রথম দিন থেকেই ৩০ মিনিট হাঁটার চেষ্টা না করে ১০ থেকে ১৫ মিনিট দিয়ে শুরু করতে পারেন।
সকালে নাকি বিকেলে হাঁটা ভালো?
হাঁটার জন্য নির্দিষ্ট একটি সময় সবার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো, এমন প্রমাণ নেই। সকালে, বিকেলে কিংবা দিনের অন্য কোনো সুবিধাজনক সময়ে হাঁটা যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস ধরে রাখা।
কারা সতর্ক থাকবেন?
হৃদ্রোগ, গুরুতর শ্বাসকষ্ট, চলাফেরায় সমস্যা কিংবা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থাকলে ব্যায়ামের ধরন ও পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
হাঁটার সময় বুকে ব্যথা, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে হাঁটা বন্ধ করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।
সুস্থ থাকতে একদিন অনেকক্ষণ হাঁটার চেয়ে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
— মুহা. মীযানুর রহমান আদীব | স্বাস্থ্য ডেস্ক | SCSCNEWS