ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 85 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

গৌরীপুরে ২ বছরের শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যা
-সংগৃহীত
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় মাত্র দুই বছরের এক অবোধ শিশু ওয়াসকুরুনি ইসলামকে বিষ খাইয়ে নির্মমভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সতিনের সন্তান হওয়ায় নিজের ‘রাস্তা ক্লিয়ার’ করতেই শিশুটিকে বিষ পান করিয়ে হত্যা করার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তার সৎমা আকলিমা আক্তার।
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ওই নারী আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। নির্মম এই জবানবন্দি গ্রহণের পর বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় থানা সূত্রে জানা গেছে, আকলিমা আক্তার শিশুটিকে তার নিজের সংসারের পথের কাঁটা মনে করতেন এবং সেই ক্ষোভ ও মানসিক হিংসা থেকেই এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটান।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার উপজেলার বীরপুর দত্তবাড়ি গ্রামের নিজ বাড়িতে শিশু ওয়াসকুরুনিকে কৌশলে বিষ পান করানো হয়। শিশুটি তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবোধ শিশুটির করুণ মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পরপরই শিশুটির আসল পরিচয় গোপন করে ও সৎমাকে নিজের মা সাজিয়ে গোপনে লাশ দাফনের অপচেষ্টা চালান আকলিমা ও তার স্বামী। খবর পেয়ে নিহত শিশুর জন্মদাত্রী মা থানা পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে রহস্যের জট খুলতে শুরু করে।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে নিহত শিশুর বাবা আবদুল কাদির এবং সৎমা আকলিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখতে ও শিশুর বাবার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না তা নিশ্চিত হতে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ, যা বর্তমানে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আবদুল কাদির। সেই সংসারে তাদের আট বছর ও দুই বছর বয়সী দুটি সন্তান ছিল। গত বছরের শেষের দিকে তাদের পারিবারিক বিচ্ছেদ ঘটলে কাদির দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিচ্ছেদের পর দুই সন্তান ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়েই বসবাস করছিলেন তিনি। ফুটফুটে অবোধ শিশুর এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিশুর মা তার সন্তানের নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদটি সম্পাদনা করেছেন: রুবেল হাওলাদার।