অনলাইন ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | 27 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

আগামীকাল উত্তাল হচ্ছে শিল্পাঞ্চল! ৯ দফা দাবি নিয়ে সাভার, গাজীপুর ও মিরপুরে রাজপথে নামছেন পোশাকশ্রমিকেরা।
-সংগৃহীত
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণ, নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখের হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং শ্রম আইনের শ্রমিকবিরোধী বিভিন্ন ধারা বাতিলের দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাভার, আশুলিয়া, হেমায়েতপুর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মিরপুরের রাজপথে একযোগে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তৈরি পোশাকশ্রমিকেরা। শিল্পাঞ্চলগুলোর স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের এ লড়াইয়ে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতাকেও পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শ্রমিক প্রতিনিধিরা।
গত কয়েক দিন ধরে চলতে থাকা তীব্র অসন্তোষ ও সংঘাতের ধারাবাহিকতায় শ্রমিক নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁদের ৯ দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলোর বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. তৌফিক হত্যার বিচার: গাজীপুরে আন্দোলনে হামলা ও সংঘর্ষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে আটক করে দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা বা নাটক করা যাবে না।
২. বলপ্রয়োগকারীদের বিচার: রাজপথে শ্রমিকদের নিয়মতান্ত্রিক ও ন্যায্য আন্দোলনে বলপ্রয়োগকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত করে তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং তাঁদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।
৩. রাজনৈতিক সন্ত্রাসীদের বিচার: শ্রমিক আন্দোলন দমনে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাজপথে অবস্থান নেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাইরের রাজনৈতিক দলের ক্যাডার ও সদস্যদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
৪. ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা: জীবনযাত্রার উচ্চব্যয় বিবেচনায় পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে এবং ২০২৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে।
৫. ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি: নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২০ দিনের পরিবর্তে বাড়িয়ে ৬ মাস করতে হবে। পূর্বের মতো সকল আর্থিক সুবিধা বহাল রেখে ছুটি শুরুর আগেই সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের বিধান করতে হবে।
৬. ব্ল্যাকলিস্ট প্রথা বন্ধ: আন্দোলন বা প্রতিবাদের অজুহাতে শ্রমিকদের তালিকা তৈরি করে চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত বা ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ করার অনৈতিক প্রথা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
৭. লভ্যাংশের ৫ শতাংশ পরিশোধ: শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের নিট মুনাফার ৫ শতাংশ শ্রমিকদের মাঝে বিতরণের বিধান কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোকে দেওয়া অব্যাহতির সুবিধা বাতিল করে বিগত অর্থবছরের লভ্যাংশ আগামী ডিসেম্বরের বেতনের সঙ্গেই পরিশোধ করতে হবে।
৮. শ্রম আইনের ১৩ ধারা বাতিল: মালিকপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতামূলক কারখানা বন্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত শ্রম আইনের ১৩ ধারা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে, যা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত করে।
৯. টার্মিনেশন প্রথায় পরিবর্তন: ১২০ দিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ নোটিশ পে দিয়ে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করার ঢালাও বিধান বাতিল করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
উত্থাপিত এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না করা হলে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। একই দিনে একাধিক বড় বড় শিল্পাঞ্চলে মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুরো পোশাক খাত ও কারখানাগুলোতে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
#(রুবেল হাওলাদার)