| বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | 53 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

হাঙ্গেরিতে কমিউনিস্ট শাসনামলে গোপন পুলিশের হয়ে কাজ করা তথ্যদাতাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) দেশটির সরকার একটি অনলাইন অনুসন্ধানযোগ্য তথ্যভান্ডার চালু করেছে। এতে আনুমানিক ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার সাবেক তথ্যদাতার নাম ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড পাওয়া যাবে।
প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগিয়ার এই উদ্যোগকে দেশটির অতীতের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও নজরদারির ইতিহাস প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সময় যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, দীর্ঘদিন পর তা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
১৯৪৯ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত হাঙ্গেরিতে একদলীয় কমিউনিস্ট শাসন ছিল। ওই সময়ে বিরোধী মত দমন, নাগরিকদের ওপর নজরদারি এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে গোপন তথ্যদাতাদের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে তথ্যদাতাদের নিজেদের সহকর্মী, বন্ধু কিংবা আত্মীয়দের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হতো।
১৯৯০ সালে কমিউনিস্ট শাসনের অবসানের পর থেকে এসব নথি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি উঠলেও বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ আটকে যায়। আগে মূলত গবেষক এবং নজরদারির শিকার ব্যক্তি বা তাঁদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের জন্য নথি দেখার সুযোগ সীমিত ছিল।
এবার চালু হওয়া ডিজিটাল তথ্যভান্ডারে সাধারণ মানুষও অনুসন্ধান করতে পারবেন। তবে নথিতে কারও নাম থাকলেই তিনি স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রের হয়ে তথ্য দিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলে সতর্ক করেছেন ইতিহাসবিদেরা। কেউ কেউ চাপের মুখে নিয়োগ পেয়েও তথ্য না দিয়ে কর্তৃপক্ষের বিরোধিতা করেছিলেন বলে তাঁদের উদাহরণ রয়েছে।
সরকারি আর্কাইভের হিসাব অনুযায়ী, চার দশকের কমিউনিস্ট শাসনামলে প্রায় দেড় লাখ মানুষ তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তবে তাঁদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশের নথিই বর্তমানে টিকে আছে। ১৯৫৬ সালের সোভিয়েতবিরোধী অভ্যুত্থান এবং ১৯৮৯-৯০ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় অনেক নথি ধ্বংস বা গোপন করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
সরকার জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় আরও প্রায় ৯ হাজার তথ্যদাতার বিস্তারিত নথি প্রকাশ করা হবে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে কিছু সংবেদনশীল তথ্য বাদ দেওয়া হবে।
নতুন এই উদ্যোগ হাঙ্গেরির রাজনৈতিক ইতিহাস, রাষ্ট্রীয় নজরদারি এবং কমিউনিস্ট আমলের ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে গবেষণার সুযোগ বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুরোনো নথি প্রকাশের ফলে বহু পরিবারকে অস্বস্তিকর অতীতের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
—মুহা. মীযানুর রহমান আদীব | আন্তর্জাতিক ডেস্ক | SCSCNEWS