শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
কৃষিপণ্যের দামে স্বচ্ছতা আনতে বড় বাজারগুলোতে ডিজিটাল প্রাইস বোর্ড বসানোর নির্দেশ

মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট কমাতে পাইকারি বাজারে নতুন উদ্যোগ

ডেস্ক রিপোর্ট   |   মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   104 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট কমাতে পাইকারি বাজারে নতুন উদ্যোগ

ডিজিটাল বোর্ডে মিলবে সঠিক দর, সিন্ডিকেটের থাবা থেকে বাঁচবে ভোক্তারা!

-সংগৃহীত



কৃষক পর্যায়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং শহরের সাধারণ ভোক্তাদের সহনীয় দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে দেশের বড় বড় পাইকারি বাজারে ডিজিটাল প্রাইস বোর্ড স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।

সবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের পাইকারি দামে স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজারে প্রতিদিনের প্রকৃত পাইকারি মূল্য প্রকাশ্যে প্রদর্শিত হলে ক্রেতা, খুচরা ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে দামের বিষয়ে বিভ্রান্তি কমবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন সকালে বাজারের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঠিক পাইকারি ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য ডিজিটাল বোর্ডে প্রদর্শন করতে হবে। বাজারে আসা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা যেন সহজেই এসব মূল্য দেখতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে কৃষিপণ্য উৎপাদনের পর কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে একাধিক মধ্যস্বত্বভোগী যুক্ত থাকেন। এসব স্তরে পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় অনেক সময় কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পান না। অন্যদিকে, একই পণ্য ভোক্তাকে তুলনামূলক বেশি দামে কিনতে হয়।

ডিজিটাল প্রাইস বোর্ড চালু হলে পাইকারি বাজারে কোন পণ্য কত দামে কেনাবেচা হচ্ছে, তা প্রকাশ্যে জানা যাবে। ফলে বাজারে মূল্য নিয়ে অস্পষ্টতা কমার পাশাপাশি অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানোর সুযোগও সীমিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, কোনো অসাধু ফড়িয়া, মধ্যস্বত্বভোগী বা সংঘবদ্ধ চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তা সহজেই নজরে আসবে। একই সঙ্গে খুচরা ব্যবসায়ীরাও পাইকারি বাজারের ঘোষিত মূল্য সম্পর্কে ধারণা নিয়ে পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।

বিশেষ করে সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে প্রতিদিনই দামের ওঠানামা দেখা যায়। সরবরাহ, চাহিদা, পরিবহন ব্যয় ও মৌসুমি উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে এসব পণ্যের দাম পরিবর্তিত হয়। এ অবস্থায় প্রতিদিনের প্রকৃত পাইকারি মূল্য প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হলে বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের কাছে একটি পরিষ্কার ধারণা তৈরি হবে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষক, পাইকারি ব্যবসায়ী, খুচরা বিক্রেতা এবং ভোক্তার মধ্যে মূল্যসংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাজার তদারকির ক্ষেত্রেও ডিজিটাল মূল্য প্রদর্শন ব্যবস্থাকে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ডিজিটাল প্রাইস বোর্ড স্থাপন করলেই বাজারে স্থায়ী শৃঙ্খলা ফিরবে না। বোর্ডে প্রদর্শিত মূল্য নিয়মিত হালনাগাদ করা এবং বাস্তব বাজারদরের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অস্বাভাবিক দামে পণ্য কেনাবেচা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকির আওতায় আনতে হবে।

তবে পাইকারি বাজারে প্রতিদিনের মূল্য প্রকাশ্যে প্রদর্শনের এই উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কৃষিপণ্যের দামে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অযৌক্তিক প্রভাব কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক :
মুফতী আব্দুল কুদ্দুস আজিজী
উপদেষ্টা :
এড. রফিকুল ইসলাম মুকুল
বার্তা সম্পাদক :
মো. কবির হোসেন
প্রকাশক :
ইউনাইটেড সিটিজেন্স ফোরাম(UCF)
প্রতিষ্ঠাতা/নির্বাহী পরিচালক :
মুহা. মীযানুর রহমান আদীব

বর্তমান অস্থায়ী ঠিকানা:

উত্তর রায়েরবাগ, রশিদবাগ (গ্যাস রোড) যাত্রাবাড়ী, ঢাকা–১২৩৬

মোবাইল : 01939060135

ই-মেইল: [email protected]