শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
পিপিআরসির ২০২৫ সালের জরিপে দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি এবং আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বিস্তারের চিত্র উঠে এসেছে।

বাংলাদেশে দারিদ্র্য বেড়েছে, চাপে মধ্যবিত্ত পরিবারও

অনলাইন ডেস্ক   |   রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   57 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বাংলাদেশে দারিদ্র্য বেড়েছে, চাপে মধ্যবিত্ত পরিবারও

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পারিবারিক জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) ২০২৫ সালের জরিপে দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকার চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে মাঝারি দারিদ্র্য ও চরম দারিদ্র্য—দুই সূচকেই বৃদ্ধি দেখা গেছে।
পিপিআরসির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাঝারি দারিদ্র্যের হার ছিল ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ২০২২ সালের তুলনামূলক হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে চরম দারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সংখ্যা পিপিআরসির জরিপ ও তাদের ব্যবহৃত দারিদ্র্যসীমার ভিত্তিতে করা হিসাব; তাই এগুলোকে সরকারি পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনা করার সময় পদ্ধতিগত পার্থক্য বিবেচনায় রাখা জরুরি।
গবেষণায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে—আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মধ্যবিত্ত বা ‘ফ্র্যাজাইল মিডল’। পিপিআরসির হিসাবে, প্রায় ১৮ শতাংশ পরিবার এই শ্রেণির মধ্যে পড়ে; জনসংখ্যার হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ। এই জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার ওপরে থাকলেও আয় কমে যাওয়া, অসুস্থতা, চাকরি হারানো কিংবা হঠাৎ বড় ব্যয়ের কারণে আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।
দৈনন্দিন জীবনে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের খরচ একটি পরিবারের বাজেটের বড় অংশ দখল করে। এসব ব্যয় আয়ের তুলনায় দ্রুত বাড়লে সঞ্চয়ের সুযোগ কমে যায়। তখন জরুরি প্রয়োজনে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে এবং সামান্য আর্থিক ধাক্কাও পরিবারের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করতে পারে।
দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধির পেছনে কোন কোন কারণ কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নির্ধারণে আয়, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, পরিবারের ব্যয় এবং সামাজিক সুরক্ষার তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। শুধু দারিদ্র্যের হার নয়, মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ও নিরাপদ কর্মসংস্থানের সুযোগও অর্থনৈতিক অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটিও নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় নেওয়া দরকার।
পিপিআরসির গবেষণা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা তৈরি করেছে। তবে দারিদ্র্য পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে সরকারি পরিসংখ্যান, অন্যান্য গবেষণা এবং সময়ের সঙ্গে আয়-ব্যয়ের পরিবর্তনও বিবেচনা করা জরুরি।


| মুহা. মীযানুর রহমান আদীব | SCSC NEWS

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক :
মুফতী আব্দুল কুদ্দুস আজিজী
উপদেষ্টা :
এড. রফিকুল ইসলাম মুকুল
বার্তা সম্পাদক :
মো. কবির হোসেন
প্রকাশক :
ইউনাইটেড সিটিজেন্স ফোরাম(UCF)
প্রতিষ্ঠাতা/নির্বাহী পরিচালক :
মুহা. মীযানুর রহমান আদীব

বর্তমান অস্থায়ী ঠিকানা:

উত্তর রায়েরবাগ, রশিদবাগ (গ্যাস রোড) যাত্রাবাড়ী, ঢাকা–১২৩৬

মোবাইল : 01939060135

ই-মেইল: [email protected]