মঙ্গলবার ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর উপকার একটি মহৎ কাজ

মোহাম্মদ চৌধুরী   |   বুধবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   392 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

পর উপকার একটি মহৎ কাজ
মানুষ মানুষের জন্য । মানুষের বিপদে আপদে মানুষ এগিয়ে আসা মানুষের সব চেয়ে বড় কর্তব্য। কিন্তু এখনের কিছু মানুষ অনেক সময় অন্য একজন মানুষের বিপদের সময় এগিয়ে আসবে দূরের কথা না দেখার চেষ্টা করে সবাই চলে যায়। আর মনে মনে নিজে কে বলে আমি দেখি নি এখানে কি হয়ে ছিল। ফলে সে তার নিজের মন কে শান্তনা দেয়। ফলে তার নিজের মন একটু সুস্থির পায় ।
কিন্তু এ গল্পে একটা বিড়াল মানুষের বিপদে এগিয়ে আসবে । মানুষের জন্য তার সুন্দর জীবন টা দিয়ে দিবে মৃত্যুর মুখে । চলে যাবে হাসি মুখে এ দুনিয়া থেকে । কারণ সে পৃথিবী শ্রেষ্ঠ জীবের জন্য তার জীবন দিয়েছে। . একদিন বাবুর্চি আল্লাহ্’র পবিত্র জায়গা মাদ্রাসায় সকল ছাত্রদের জন্য খাবার তৈরি করতে ছিল । খাবার প্রায় শেষ হওয়ার পথে । সবজি দিয়ে ভাজি রান্না করা হয়ে গেছে ।
আর ভাতও রান্না করা হয়ে গেছে। শুধু ডাল রান্না করা হয় নি। ডাল রান্না করার জন্য গ্যাসের চুলার মধ্যে হাড়িপাতিল বসিয়েছে বাবুর্চিরা । বাবুর্চি হাড়িপাতিলের মধ্যে ডাল দিয়ে রান্না করা শুরু করে দিয়েছে। . সব বাবুর্চি এক জায়গায় বসে গল্প করতে ছিল । কিন্তু তাদের মধ্যে একজন বাবুর্চি দেখতে পেল একটা বিড়াল ভাজির ধারে কাছে ঘুরাঘুরি করতাছে । তাই সে সেখান থেকে উঠে গিয়ে একটা লাঠি নিয়ে বিড়াল টা কে মারতে গেল । বিড়াল টা মিউমিউ করে সেখান থেকে চলে গেল। তারপর বাবুর্চি আবার এসে সবার সাথে গল্প করতে শুরু করল। আর বিড়াল টা একটু দূরে বসে রইল। . একসময় দেখা গেল কোনো বাবুর্চি ঐ ডালের হাড়িপাতিলের ধারেকাছে ছিলেন না।
শুধু বিড়াল টা ছিল । বিড়াল টা এসব খাবার খাওয়ার জন্য বিভিন্ন মাধ্যম বের করল কিন্তু সে সব সময় ব্যর্থ হলো। কিন্তু একসময় বিড়ালের শরীরের চামড়া ফুলতে থাকলো। বিড়ালের শরীর থরথর করে কাঁপতে শুরু করল । তার চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করল । কিন্তু কেন? কারণ ডালের হাড়িপাতিলের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর সরীসৃপ জাতীয় প্রানী সাপ পড়েছে । তার শরীরের সমস্ত বিষ এই ডালে মধ্যে মিশে গেল। এখন মাদ্রাসার সকল ছাত্ররা এই ডাল গেলে মৃত্যুবরণ করবে। বিড়াল এসব ভেবে ভেবে সে চিন্তায় পড়ে গেল। তাই বিড়াল কিভাবে মাদ্রাসার সকল ছাত্রদের কে এই সাপের বিষের হাত থেকে রক্ষা করা যায় বিভিন্ন উপায় বের করল। সে একটা উপায় বের করে সে উপায় অনুসারে কাজ করতে শুরু করল। . সে এক দৌড়ে এক বাবুর্চির কাছে গেল আবার ঐ বাবুর্চি কাছে গিয়ে আবার এক দৌড়ে হাড়িপাতিলের কাছে এলো।
আর এখানে এসে মিউমিউ করতে শুরু করল। কিন্তু বাবুর্চি লাঠি নিয়ে বিড়াল কে মারতে চলে আসলো । আর বিড়াল একটু ভয় পেয়ে দৌড় দেয় । কারণ তাকে তো বাঁচতে হবে। নিজে না বাঁচলে কিভাবে ছাত্রদের কে বাঁচাবে। তাই সে আবার একি কাজ করল। মানে বাবুর্চি কাছে যায় আবার দৌড় দিয়ে হাড়িপাতিলের কাছে চলে আসে। কিন্তু বাবুর্চি বারবার তাকে মারতে চলে আসে। . তাই সে ভাবতে লাগলো কিভাবে সে মাদ্রাসার সব ছাত্রদের কে রক্ষা করবে। সে একটা উপায় বের করল। সে উপায় টা তার কাছে সবচেয়ে ভালো উপায় মনে হলো । এখানে বাবুর্চি তাকে মারতে চলে আসবে না । সে নিজের ইচ্ছা মতো কাজ টা করতে পারবে। সে উপায় হলো সে নিজে মরে সব ছাত্রদের কে বাঁচাবে। . যখন ছাত্ররা ভাতের সাথে ডাল খাওয়ার জন্য এই হাড়িপাতিলের মধ্য থেকে ডাল নিতে আসবে তখন বিড়াল এই হাড়িপাতিলের মধ্যে লাফ দিবে। পরে ছাত্ররা আর এই ডাল খাবে না। পরে তারা এই বিষাক্ত সাপের বিষ থেকে রক্ষা পাবে। . বিড়াল যে রকম ভেবে ছিল ঠিক সে রকম কাজ করল।
ছাত্ররা যখন ডাল নিতে আসলো ঠিক সে সময় বিড়াল লাফ দেয় হাড়িপাতিলের মধ্যে। পরে ছাত্ররা চিল্লাচিল্লি শুরু করে দেয়। ডালের মধ্যে বিড়াল পড়েছে বিড়াল পড়েছে। পরে হুজুর সহ সব ছাত্র এক জায়গায় এসে দাঁড়ায়। সব ডাল মাটিতে ফেলা হয়। আর তখন তারা দেখতে পায় বিড়ালের সাথে সাপ টাকেও। তারা সবাই একবার আল্লাহ্ আকবার বলে ডাক দেয়। তারা সবাই বিড়ালের উপকারের কথা স্বীকার করে। বিড়াল টা নিজের জীবন দিয়ে সব মাদ্রাসার ছাত্রদের কে বাঁচিয়ে দিয়ে গেছে । . কিন্তু আমাদের বর্তমান সমাজে আমরা আমাদের নিজের স্বার্থের জন্য নিজের ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করি।নিজের বোনের সাথে ঝগড়া করি। নিজের স্বার্থের জন্য সব অন্যায় কাজ করতে পারি কিন্তু আমরা কি একবার ভেবেছি আমরা মাত্র অল্প কিছু সময় এ পৃথিবীতে বাঁচব। পরে আমাদের চলে যেতে হবে মৃত্যুর পরের জীবনে । আমরা কি পারি না নিজের সব চাওয়া পাওয়া ভুলে অন্যের সব চাওয়া পাওয়া পূরণ করতে। নিজের সুখ ভুলে অন্যের জীবনটাকে সুখে ভরিয়ে দিতে। অন্যের বিপদে এগিয়ে যেতে। এতে আল্লাহ্ অনেক খুশি হবেন। কপি
মন্তব্য করুন
সম্পাদক :
মুফতী আব্দুল কুদ্দুস আজিজী
উপদেষ্টা :
এড. রফিকুল ইসলাম মুকুল
বার্তা সম্পাদক :
মো. কবির হোসেন
প্রকাশক :
পথশিশু আশ্রয় কেন্দ্র
প্রতিষ্ঠাতা/নির্বাহী পরিচালক :
মুহা. মীযানুর রহমান আদীব

বর্তমান অস্থায়ী ঠিকানা:

উত্তর রায়েরবাগ, রশিদবাগ (গ্যাস রোড) যাত্রাবাড়ী, ঢাকা–১২৩৬

মোবাইল : +88019126490666

ই-মেইল: scscnewsbd@gmail.com