ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | 95 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের বিশাল যাত্রা। রাজধানীসহ বড় শহরগুলো থেকে লাখো মানুষ নিজ নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন। ফলে বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনগুলোতে তৈরি হয়েছে তীব্র ভিড় ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।
বিশেষ করে রাজধানীর প্রধান বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটগুলোতে সকাল থেকেই যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেকেই টিকিট সংগ্রহ করতে না পেরে সরাসরি কাউন্টারের সামনে অপেক্ষা করছেন, আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও যাত্রা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। এতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
মহাসড়কগুলোতেও যাত্রীচাপের প্রভাব স্পষ্ট। বিভিন্ন রুটে ধীরগতির যান চলাচল এবং কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। এতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে গন্তব্যে পৌঁছাতে। যাত্রীদের মধ্যে ক্লান্তি ও উদ্বেগ দুটোই বাড়ছে।
রেলপথেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ট্রেনের টিকিট অগ্রিম বিক্রি শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক যাত্রী স্টেশনে এসে হতাশ হচ্ছেন। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে বা ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ করছেন, যা নিরাপত্তার জন্যও বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবুও অতিরিক্ত চাপের কারণে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলেও পরিকল্পনার ঘাটতি ও যাত্রীসংখ্যার তুলনায় পর্যাপ্ত পরিবহন না থাকায় ভোগান্তি পুরোপুরি কমানো সম্ভব হচ্ছে না। তারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ঈদের আনন্দ ঘিরে বাড়ি ফেরার এই যাত্রা অনেকের জন্য হয়ে উঠেছে কষ্টকর ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। তবুও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আশায় সব বাধা পেরিয়ে পথে নেমেছেন মানুষ।