ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 246 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাতের কারণে মানবিক পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে আল-আওদা হাসপাতাল তাদের অধিকাংশ চিকিৎসা সেবা বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় ৬০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন এবং প্রতিদিন গড়ে এক হাজার রোগীকে সেবা দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জরুরি বিভাগ, প্রসূতি ও শিশু বিভাগ সীমিত আকারে চালু রেখেছেন।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় তারা এখন টর্চলাইটের আলোয় জরুরি অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা সেবা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ ও সরবরাহ বন্ধ থাকায় গাজার পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থাই প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
এই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘোষণা দিয়েছেন যে তাঁর দেশ “গাজা কখনোই ছাড়বে না” এবং উত্তর গাজায় নতুন সামরিক বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, গাজায় ওয়েস্ট ব্যাংকের মতোই “বাস্তবিক নিয়ন্ত্রণ” প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, আগামী সপ্তাহে ফ্লোরিডায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠককে গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের মূল নির্ধারক হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
সামরিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে ইসরায়েল দাবি করেছে যে তারা গাজায় হামাসের আর্থিক কর্মকর্তা আবদেল হাই জাকুতকে হত্যা করেছে, যিনি সংগঠনটির সশস্ত্র শাখায় অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একই হামলায় হামাসের এক সামরিক কমান্ডারও নিহত হয়েছেন বলে তারা জানায়।
এছাড়া, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে, যা অঞ্চলটির অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।