ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | 174 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় গলাকাটা ও মাথাবিহীন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক যুবকের লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মো. মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নাম প্রকাশ না করলেও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, লাশের পরিচয় এবং সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নিহত ব্যক্তির নাম গোপাল চন্দ্র দাস (৪০)। তিনি বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের গণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পরিমল চন্দ্র দাসের ছেলে। এই ঘটনায় সম্রাট ও মো. রাজু নামে দুইজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মামুন মিয়ার ইটভাটার দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে নদীর তীর থেকে গলাকাটা ও মাথাবিহীন একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে এবং শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা মর্গে পাঠায়।
পুলিশ সুপার জানান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পিবিআই, সিআইডি ও র্যাব যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে আশপাশের কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণে কয়েকজন সন্দেহভাজনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে একটি সাদা রঙের আরটিআর মোটরসাইকেলে তিন যুবক মামুন মিয়ার ইটভাটার ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর বিকেল ৩টা ২৭ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেলে থাকা দুইজন দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর ভাটার এক কর্মচারী নদীর পাড়ে গিয়ে মস্তকবিহীন লাশটি দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসে এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সন্দেহভাজনদের একজনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অজ্ঞাত কোনো স্থান থেকে ওই যুবককে অপহরণ করে নির্জন এলাকায় এনে হত্যা করা হয় এবং পরে লাশটি সেখানে ফেলে রাখা হয়।