মফিজুল হক চৌধুরী | সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 95 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সুইটি আমার ছেলের বউ নয়, মিথ্যা গুজব ছড়ানো হচ্ছে’— সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নজরুলের বাবার দাবি!
-প্রতিনিধি
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড ইসলাম ও সুইটি আক্তারকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। তবে এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুজব বলে দাবি করেছেন নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সুইটি আক্তারকে তাঁদের পরিবার চেনেই না এবং তাঁদের মধ্যে কোনো বিয়ের সম্পর্ক ছিল না।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আব্দুল বাছির এসব কথা বলেন।
যা বলেছেন নজরুলের বাবা
আব্দুল বাছির বলেন, “ছেলেকে কলেজে পড়ার সময় পরিবারের হাল ধরতে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। সে বিয়ে করল কখন? ওই মেয়ে নজরুলের স্ত্রী নয়, তাকে আমরা চিনিও না। শুনেছি, তারা একই জায়গায় কাজ করত। আর তাদের মরদেহ দেশে আসছে—এ তথ্যও ঠিক নয়।”
তিনি জানান, পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে যান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম (২৫)। যাওয়ার মাত্র ছয় মাস কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকেই টানা তিন বছর তিন মাস কারাগারে ছিলেন নজরুল। গত বুধবার গণমাধ্যমের খবর থেকেই ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানতে পারেন তাঁরা।
গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট ও পরিবারের দুরবস্থা
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তারের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। তবে ঠিক কী কারণে বা কী অভিযোগে তাঁদের বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই পরিবারের।
ছেلهকে বিদেশে পাঠাতে গিয়ে সাত লাখ টাকা ঋণ করেছিলেন আব্দুল বাছির। নজরুল মাত্র দেড় লাখ টাকা পাঠাতে পেরেছিলেন। বর্তমানে ঋণের চাপে দিশেহারা এই পরিবার। ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে এবং পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার পেতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা।
শোকে স্তব্ধ গ্রাম ও স্বজনদের প্রতিক্রিয়া
হৃদরোগে মৃত্যু: নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর শুনে তাঁর ফুফু আবেদা বেগম অতিরিক্ত শোকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযথ উদ্যোগ নিলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, পরিবারের দাবি অনুযায়ী গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।