ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 72 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০০ জনের বেশি মানুষ। হামলার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে।
রবিবার, ১১ অক্টোবর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, বেসামরিক স্থাপনা ও সাধারণ মানুষের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, যাতে নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায় এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়।
প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত তথ্যে হামলায় বিভিন্ন দেশের নাগরিক হতাহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সৌদি আরব, বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আহতদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা কেমন, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার জন্য ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে হামলার দায়, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এসব বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
বিমানবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনা। এখানে হামলা হলে যাত্রীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল, পণ্য পরিবহন এবং আঞ্চলিক যোগাযোগও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা তৈরি হয়েছে। আকাশপথে চলাচলকারী যাত্রীদের জন্য ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় এ ঘটনা বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আহতদের চিকিৎসা এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় আসতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো হতাহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করা এবং তাঁদের পরিবারকে যথাযথ সহায়তা দেওয়া। একই সঙ্গে তদন্তের ফল ও সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হলে হামলার প্রকৃত পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে।