ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 269 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে নতুন মাত্রার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একসময় একই সামরিক জোটে থাকা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এখন কার্যত বিপরীত অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বিমান হামলা ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তে এই বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা দেশটির যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
মঙ্গলবার ভোরে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে সৌদি আরবের বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার লক্ষ্য ছিল ইউএই-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল’ (এসটিসি)।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, হাদরামাউতের বন্দরনগরী মুকাল্লায় এসটিসির জন্য অস্ত্র ও সাঁজোয়া যান নামানো হচ্ছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কার্যক্রম নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করেছে এবং তা সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছিল। অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ ছিল।
অন্যদিকে, এসটিসি এই হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গোষ্ঠীটির দাবি, হাদরামাউতে মোতায়েন তাদের অভিজাত ইউনিটগুলোই ছিল হামলার মূল লক্ষ্য। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে রাতের অন্ধকারে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
এই ঘটনাপ্রবাহ সৌদি আরব ও ইউএইর মধ্যে বাড়তে থাকা মতবিরোধকে প্রকাশ্যে এনেছে। হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন একসঙ্গে লড়াই করলেও, ইয়েমেনের ভেতরে দুই দেশ ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে আসছে। সৌদি আরবের অভিযোগ, এসটিসিকে আমিরাতের সহায়তা ইয়েমেন ও পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি আরব আমিরাতের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি দেশটি থেকে আমিরাতি সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন এবং সাময়িকভাবে আকাশ ও নৌ অবরোধ জারির কথাও জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ইয়েমেনে এসটিসির দ্রুত সম্প্রসারণ দেশটিকে কার্যত বিভক্ত করার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। একদিকে দক্ষিণের তেলসমৃদ্ধ অঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, অন্যদিকে উত্তরে রাজধানী সানাসহ হুতিদের শক্ত ঘাঁটি—এই বাস্তবতায় ইয়েমেন আবারও এক গভীর ও বহুমাত্রিক সংকটের দিকে এগোচ্ছে।