বুধবার ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
পথশিশু আশ্রয় কেন্দ্র বাংলাদেশের প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক চিত্র: বিচারহীনতা, সামাজিক ট্যাবু ও ডিজিটাল গ্রুমিং ক্রমবর্ধমান; দ্রুত ও ভিকটিম-বান্ধব বিচার ব্যবস্থার জোর দাবি

ধর্ষণ সংকট: নীরবতার শৃঙ্খল ভাঙতে হবে এখনই

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   206 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ধর্ষণ সংকট: নীরবতার শৃঙ্খল ভাঙতে হবে এখনই

মুহা. মীযানুর রহমান আদীব

-ফাইল ছবি

বাংলাদেশেধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা একটি গভীর সামাজিক সংকট হিসেবে রূপ নিয়েছে, যা শিশু থেকে শুরু করে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক নারীসহ সকল শ্রেণিকে আক্রান্ত করছে। আইনের দুর্বল বাস্তবায়ন, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং সামাজিক নীরবতার সংস্কৃতি এই অপরাধকে সুবিধাজনক অবস্থান দিয়েছে।

পথশিশু আশ্রয় কেন্দ্র বাংলাদেশের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অপরাধের ধরনের মধ্যে রয়েছে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, সাইবার গ্রুমিং এবং পারিবারিক সদস্যদের দ্বারা নির্যাতন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে শিশু, কিশোরী, কর্মজীবী নারী, আদিবাসী ও শারীরিকভাবে ভিন্ন সক্ষম নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, সামাজিক ট্যাবু, ভুক্তভোগীকে দোষারোপের মনোভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গ্রুমিং এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ সেল থাকলেও ভুক্তভোগী-বান্ধব সেবা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে এখনও চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুহা. মীযানুর রহমান আদীব বলেন, “মামলা দায়ের থেকে শুরু করে চূড়ান্ত রায় পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটিই ভুক্তভোগীর জন্য একটি কঠিন যুদ্ধ। সামাজিক কলঙ্ক এবং প্রভাবশালী চাপের কারণে অনেকেই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। আমাদের নীরবতার এই সংস্কৃতি ভেঙে ফেলতে হবে।”

প্রতিবেদনে দ্রুত ও গোপনীয় বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন, ফরেনসিক ল্যাবরেটরি শক্তিশালীকরণ এবং ব্যক্তিগত মর্যাদা ও অধিকারের সুরক্ষায়, স্কুল-কলেজ স্তরে ‘সম্মতি’ (Consent) ও নারী-পুরুষের ন্যায্য অধিকার বিষয়ে বাধ্যতামূলক শিক্ষা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গত পাঁচ বছরে মামলার সংখ্যা বেড়েছে, তবে দোষী সাব্যস্তের হার তুলনামূলকভাবে কম। নিরাপদ সমাজ গঠনে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনার ওপর জোর দিয়েছে পথশিশু আশ্রয় কেন্দ্র।

উপসংহার (পথশিশু আশ্রয় কেন্দ্র বাংলাদেশের পক্ষ থেকে):
ধর্ষণ কোনোব্যক্তিগত সমস্যা নয়—এটি একটি কাঠামোগত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সংকট। ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা, শিক্ষা ও জবাবদিহি একসঙ্গে কাজ না করলে পরিবর্তন আসবে না। প্রতিটি ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের—সবাইয়েরই দায় আছে। আজ থেকেই বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, যাতে ভিকটিমের কণ্ঠ শোনা যায়, অপরাধী শাস্তি পায় এবং নিরাপদ সমাজ গড়ে ওঠে।


মুহা. মীযানুর রহমান আদীব
প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক
পথশিশু আশ্রয় কেন্দ্র বাংলাদেশ


আরও পড়ুন:

অশ্লীলতার আগ্রাসন: ডিজিটাল যুগে নৈতিকতার সংকট

AI ব্যবহারের নৈতিকতা ও চাকরির ভবিষ্যৎ


রাস্তার শিশুদের অন্ধকার জীবন: বাংলাদেশের ৩৪ লাখ পথশিশুর অদেখা সংগ্রাম

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক :
মুফতী আব্দুল কুদ্দুস আজিজী
উপদেষ্টা :
এড. রফিকুল ইসলাম মুকুল
বার্তা সম্পাদক :
মো. কবির হোসেন
প্রকাশক :
পথশিশু আশ্রয় কেন্দ্র
প্রতিষ্ঠাতা/নির্বাহী পরিচালক :
মুহা. মীযানুর রহমান আদীব

বর্তমান অস্থায়ী ঠিকানা:

উত্তর রায়েরবাগ, রশিদবাগ (গ্যাস রোড) যাত্রাবাড়ী, ঢাকা–১২৩৬

মোবাইল : +88019126490666

ই-মেইল: scscnewsbd@gmail.com