নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 447 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

রাতের রাজধানী ঢাকা। যখন শহর ঘুমিয়ে পড়ে, তখনই রাস্তার পাশের ফুটপাত, স্টেশন কিংবা অন্ধকার পার্কের কোণায় মেলে ভিন্ন এক ছবি। ঠাণ্ডা সিমেন্টের ওপর পাতলা কাঁথায় ঘুমিয়ে পড়েছে কয়েকজন শিশু। তাদের চোখে স্বপ্ন নেই, শুধু আছে অনিশ্চয়তার কালো ছায়া। বাংলাদেশে বিভিন্ন গবেষণা ও সংস্থার জরিপ অনুযায়ী প্রায় ৩৪ লাখ পথশিশু প্রতিদিন লড়াই করছে শুধু বেঁচে থাকার জন্য। কিন্তু তাদের এই সংগ্রামের পেছনের গল্প কেউ কি দেখে?
খাদ্য: “এক বেলা খেলে আরেক বেলা অনিশ্চিত,” বলছিল মাত্র ১০ বছরের রনি। ফুটপাতের ভিক্ষা বা হোটেলের উচ্ছিষ্টই তাদের প্রধান খাবার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর তথ্য বলছে, ৮৭% পথশিশু অপুষ্টির শিকার।
বাসস্থান: রাতের অন্ধকারে রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল বা খোলা আকাশই তাদের ছাদ। বর্ষায় ভিজে, শীতে কাঁপতে কাঁপতে কাটে রাত।
স্বাস্থ্য: চিকিৎসা পাওয়া তাদের কাছে বিলাসিতা। চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়ায় ভোগা তাদের নিত্যসঙ্গী। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬০% পথশিশুই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা পায়নি গত এক বছরে।
যৌন নিপীড়ন: অন্ধকার রাতেই সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয় সহিংসতা। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য মতে, প্রতিবছর শত শত পথশিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ বা স্থানীয় অসাধুদের হাতেই হয় এই নির্যাতন।
মাদকের ছোবল: “সিগারেট, আঠা শুঁকি, তখন অনেকক্ষণ ক্ষুধা লাগে না,” বললো ১৪ বছরের জাহিদ। রাজধানীর অনেক পথশিশুই জীবন বাঁচাতে মাদকের ভয়াবহ জগতে ঢুকে পড়ছে।
পাচার: আশ্রয়হীন শিশুরা পাচারকারীদের সহজ টার্গেট। প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় দূরদূরান্তে, জোরপূর্বক ভিক্ষা বা অবৈধ কাজে ব্যবহারের জন্য।

এই অন্ধকারেও আলোর দিশা দেখানোর চেষ্টা করছে ‘পথশিশু আশ্রয় কেন্দ্র বাংলাদেশ’ এর মতো সংস্থা। প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক মুহা. মীযানুর রহমান আদীব জানান, “আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের ৮টি বিভাগে ৮টি পূর্ণাঙ্গ আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে শিশুরা থাকতে, পড়াশোনা করতে এবং নিরাপদ বেড়ে উঠতে পারবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আমাদের প্রথমে জমির প্রয়োজন। কেউ যদি জমি দান করেন, তা হবে সবচেয়ে বড় সহায়তা। এরপর নির্মাণ সামগ্রী, আসবাবপত্র এবং মাসিক পরিচালনা খরচের জন্য সহায়তা প্রয়োজন। আমরা মানবিক ক্যাম্পেইন, ফ্রি চিকিৎসা সেবা দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়া প্রকৃত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।”
প্রিয় দেশবাসী ও মানবতাবাদী সহযোগী,
৩৪ লাখ পথশিশুর জন্য আমরা ৮টি বিভাগে ৮টি পূর্ণাঙ্গ আশ্রয়কেন্দ্র গড়ার স্বপ্ন দেখি। কিন্তু এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন একার পক্ষে সম্ভব নয়। আপনার সাহায্যের প্রয়োজন পর্যায়ক্রমে:
বাংলাদেশের যেকোনো বিভাগীয় শহর বা জেলা সদরে ২-৩-৫-১০ কাঠা জমি
এটি আমাদের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন
ইট, সিমেন্ট, রড, বালু, সিরামিক
বিদ্যুৎ ও প্লাম্বিং সামগ্রী
জানালা-দরজা, গেট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা
শিশুদের বেড, ম্যাট্রেস, বালিশ
পড়ার টেবিল-চেয়ার, বই, শিক্ষা সামগ্রী
রান্নাঘরের সরঞ্জাম, ফ্রিজ, ওভেন
মেডিকেল সরঞ্জাম, কম্পিউটার
মাসিক একজন শিশুর পৃষ্ঠপোষকতা (খাবার, শিক্ষা, চিকিৎসা)
শিক্ষক ও পরিচালকদের বেতন
ইউটিলিটি বিল (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি)

১. জমি দাতা:
যদি আপনার কাছে খালি জমি থাকে বা জমি দান করতে চান, সরাসরি যোগাযোগ করুন।
২. নির্মাণ সহযোগী:
কনস্ট্রাকশন কোম্পানি বা বিল্ডিং ম্যাটেরিয়াল ব্যবসায়ী হলে পুরো কেন্দ্র বা আংশিক নির্মাণে সহায়তা করুন।
৩. কর্পোরেট পার্টনার:
আপনার প্রতিষ্ঠানের CSR বাজেট থেকে একটি কেন্দ্র গড়ে তুলুন।
৪. স্বেচ্ছাসেবক:
আপনার সময় ও মেধা দিন – প্রকৌশলী, ডাক্তার, শিক্ষক হিসেবে।
৫. প্রচারক:
আমাদের প্রচারে সহায়তা করুন, আরও দাতা খুঁজে পেতে সাহায্য করুন।
যোগাযোগ:
📞 +880 1939-060135
📧 streetchildsheltercenter@gmail.com
📍 উত্তর রায়েরবাগ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা 1236, বাংলাদেশ
“একটি জমি দান, একটি আশ্রয় কেন্দ্র গড়া – আপনি হতে পারেন হাজারো শিশুর আশার আলো”
পথশিশুদের জীবন এখনও অনেকটাই অন্ধকারে ঢাকা। ৩৪ লাখ শিশুর এই বিশাল সংখ্যা আমাদের সমাজের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের ৮ বিভাগে ৮টি আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারলেই আমরা লক্ষাধিক শিশুর জীবন বদলে দিতে পারব। আপনার দেওয়া একখন্ড জমিই হতে পারে হাজারো শিশুর নিরাপদ ঘরের ভিত্তি।
প্রতিটি বিভাগে একটি করে আশ্রয়কেন্দ্র – আসুন, এই মহৎ কাজে এক হয়ে যাই।
লেখক: মুহা. মীযানুর রহমান আদীব
প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক : পথশিশু আশ্রয় কেন্দ্র বাংলাদেশ
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, মানুষ জন্য ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম, বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার জরিপ।