নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | 208 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগির দামে এক সপ্তাহের ব্যবধানে হঠাৎ বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে। যেখানে সাধারণত ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়া প্রত্যাশিত থাকে, সেখানে এবার এক লাফে কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
বাজারে আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকের পক্ষেই এখন মুরগি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ব্রয়লার মুরগি দীর্ঘদিন ধরেই তুলনামূলক সহজলভ্য ও পুষ্টিকর খাবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিল। কিন্তু হঠাৎ এত বেশি দামে মুরগি কেনা এখন অনেকের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, এত দামে মুরগি এখন তাদের জন্য বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন—এ যেন গরিবের পেটে লাথি, মাথায় হাত। আবার অনেকে বিভিন্ন হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে দ্রুত বাজার স্থিতিশীল করার দাবি জানিয়েছেন।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদাসীনতার কারণেই এই দাম বৃদ্ধি ঘটছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না এবং সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
রফিকুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে মুরগির দাম ১৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩৫ টাকায় পৌঁছেছে। এতে সংসারের দৈনন্দিন খাবারের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের খাবারের ব্যয় সামলানো এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
নাসরিন আক্তার নামে এক গার্মেন্টস কর্মী জানান, মাছ-মাংসসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে। একটি মাঝারি আকারের মুরগি কিনতেই এখন ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা খরচ হচ্ছে, যা দরিদ্র মানুষের পক্ষে বহন করা কঠিন। তার ভাষায়, আমাদের মতো সাধারণ মানুষ এখন ধীরে ধীরে সহজলভ্য খাবার থেকেও দূরে সরে যাচ্ছি।
ক্রেতারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে এবং বাজারে মুরগির দাম স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। তাদের মতে, সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি তাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও কঠিন করে তুলবে।