নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 272 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর জয়জয়কার সর্বত্র। টেক জায়ান্ট গুগলের নতুন উদ্ভাবন Gemini Nano Banana মডেলটি এখন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এর বিশেষত্ব হলো এটি আপনার দেওয়া বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে অত্যন্ত উচ্চমানের ছবি তৈরি করতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে তা হলো— কীভাবে নিজের বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ফেস (Face) ঠিক রেখে নতুন স্টাইলে ছবি তৈরি করা যায়?
গুগল জেমিনির অ্যাডভান্সড এডিটিং ফিচারের মাধ্যমে এখন মুখের গঠন বা অবয়ব অক্ষুণ্ণ রেখে ছবি তৈরি করা সম্ভব। এর জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা হচ্ছে:
রেফারেন্স ইমেজ আপলোড: প্রথমে জেমিনি চ্যাটে আপনার একটি পরিষ্কার ছবি আপলোড করতে হয়।
সঠিক প্রম্পট প্রদান: ছবি আপলোড করার পর জেমিনিকে নির্দেশ দিতে হয়। যেমন: “Keep the face from this image and put me in a space suit” (এই ছবির মুখটি ঠিক রেখে আমাকে একটি স্পেস স্যুটে দেখাও)।
ইটারেটিভ রিফাইনমেন্ট: ‘ন্যানো ব্যানানা’ মডেলটি চ্যাটের মাধ্যমে নির্দেশনা বোঝে। ছবি তৈরির পর যদি মনে হয় মুখ কিছুটা বদলেছে, তবে তাকে পুনরায় সংশোধন করার নির্দেশ দেওয়া যায়। এটি বারবার পরিবর্তনের মাধ্যমে নিখুঁত ফলাফল দিতে সক্ষম।
স্টাইল ট্রান্সফার: আপনি চাইলে নিজের ফেস ঠিক রেখে ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন, পোশাক পরিবর্তন বা এমনকি এনিমে স্টাইলেও নিজেকে রূপান্তর করতে পারছেন।

প্রযুক্তির এই উৎকর্ষের পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক প্রশ্নটিও সামনে চলে আসে। ইসলামিক স্কলারদের মতে, ছবি বা ডিজিটাল ইমেজ তৈরির ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে:
সাধারণ ডিজিটাল ছবি: অধিকাংশ আধুনিক আলেমদের মতে, প্রয়োজনীয় কাজে ডিজিটাল ছবি (যা প্রিন্ট করা হয়নি এবং মেমোরিতে সংরক্ষিত) ব্যবহার করা জায়েজ। যেমন: পরিচয়পত্র, শিক্ষা বা গঠনমূলক সংবাদ প্রচার।
চেহারা পরিবর্তন বা বিকৃতি: ইসলামে আল্লাহর সৃষ্টিতে অনর্থক পরিবর্তন করা বা কারো চেহারা বিকৃত করা পছন্দনীয় নয়। জেমিনি দিয়ে যদি কারো চেহারা বিকৃত করে হাস্যরস করা হয় বা কাউকে অপমান করা হয়, তবে তা সম্পূর্ণ নাজায়েজ।
অশ্লীলতা ও ফিতনা: এমন কোনো ছবি তৈরি করা যাবে না যা সতর উন্মুক্ত করে বা সামাজিকভাবে ফিতনা সৃষ্টি করে। পর্দা রক্ষা করে এবং মার্জিতভাবে নিজের ছবি এডিট করার ক্ষেত্রে অনেক স্কলার নমনীয় মত পোষণ করেন।
মূলনীতি: “কাজটি কেন করা হচ্ছে” তার ওপর ভিত্তি করেই এর বৈধতা নির্ভর করে। বিনোদনের খাতিরে কারো ছবি নিয়ে খেলা করা বা স্রষ্টার সৃষ্টির সমকক্ষ হওয়ার মানসিকতা বর্জন করা উচিত।
গুগল জেমিনির ‘ন্যানো ব্যানানা’ মডেলটি যেমন সৃজনশীলতার দুয়ার খুলে দিয়েছে, তেমনি এর অপব্যবহার সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে গভীর নকল বা ‘ডিপফেক’ তৈরি করে কাউকে বিভ্রান্ত করা আইনত দণ্ডনীয় এবং ধর্মীয়ভাবেও গর্হিত কাজ।
প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে এবং মার্জিত বিনোদনে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। গুগল জেমিনি আমাদের কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে, তবে সেই তুলির টান যেন হয় নৈতিক ও দায়িত্বশীল।
লেখক: মুহা. মীযানুর রহমান আদীব
প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক : পথশিশু আশ্রয় কেন্দ্র বাংলাদেশ