মোহাম্মদ চৌধুরী | সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 235 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মাত্র ১২ ঘণ্টা না খেয়ে থাকলেই মস্তিষ্কে শক্তিশালী অটোফ্যাজি প্রক্রিয়া সক্রিয় হয় (প্রতীকী ছবি)
দীর্ঘ সময় না খেলে শুধু শরীরই বদলায় না, মস্তিষ্কও নিজেকে মেরামত করতে শুরু করে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, মাত্র ১২ ঘণ্টা না খেয়ে থাকলেই মস্তিষ্কে শক্তিশালী অটোফ্যাজি প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। আর এটি ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পরিষ্কার করে স্নায়ুক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘টেক ফিক্সেটেড’ বলছে, ঠিক ১২ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার পর মস্তিষ্কে সক্রিয় হয় অটোফ্যাজি নামের বিশেষ এক প্রক্রিয়া, যা ক্ষতিগ্রস্ত প্রোটিন ও বিকল হয়ে যাওয়া অঙ্গাণু দ্রুত অপসারণ করে। সাধারণ অবস্থার তুলনায় এ সময় এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার হার বেড়ে যায় প্রায় ৩০০ শতাংশ। এমনকি এটা ধীরে ধীরে নয় বরং এক ধরনের দ্রুত ‘সুইচ’-এর মতো কাজ করে। এতে মস্তিষ্ক সাধারণ শক্তি ব্যবহারের মোড থেকে রক্ষণাবেক্ষণ মোডে চলে যায়।
না খেয়ে থাকা অবস্থায় মস্তিষ্কের কার্যক্রম নিয়ে করা গবেষণায় দেখা গেছে, না খেয়ে ১২ ঘণ্টা পার হতেই অটোফ্যাজির বিভিন্ন সূচক দ্রুত বেড়ে ওঠে। আর ১৬-২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
এই প্রক্রিয়াকে বলা যায় অণুবীক্ষণিক রিসাইক্লিং ব্যবস্থা। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নির্দিষ্ট মাত্রার নিচে নেমে গেলে মস্তিষ্কের কোষগুলো শক্তি পাওয়ার জন্য নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ভেঙে ব্যবহার করতে শুরু করে এবং একইসঙ্গে স্বাভাবিক বিপাকের সময় জমে থাকা বর্জ্যও পরিষ্কার করে। শক্তি উৎপাদন আর বর্জ্য অপসারণের এই যুগপৎ কাজের কারণেই অনেকে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে মানসিক স্বচ্ছতা বা মনোযোগ বাড়ার অভিজ্ঞতা জানান।
সাম্প্রতিক নিউরোইমেজিং গবেষণায় দেখা গেছে, এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রক্রিয়া অ্যামিলয়েড প্লাক ও টাও ট্যাংলস বিশেষভাবে অপসারণ করে। মূলত এগুলো আলঝাইমারসহ বিভিন্ন স্নায়ুবিক অবক্ষয়জনিত রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
২ হাজার ৪০০ জনকে নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ১২–২৪ ঘণ্টার না খেয়ে থাকেন এমন ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে এসব ক্ষতিকর প্রোটিন জমার হার অন্যদের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম।
এখানে যে মূল প্রক্রিয়াটি কাজ করে তা হলো কোষের ওপর সীমিত খাদ্যাভাবের চাপ। মূলত এটি শুনতে নেতিবাচক মনে হলেও এতে মস্তিষ্কের কোষ আরও শক্তিশালী হয়। বাহ্যিক শক্তির উৎস কমে গেলে নিউরনগুলো বিদ্যমান সম্পদ আরও দক্ষভাবে ব্যবহার করে এবং সেই সঙ্গে মেরামতের যে প্রক্রিয়াগুলো সাধারণ সময় নিষ্ক্রিয় থাকে, সেগুলোও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এছাড়া অটোফ্যাজির কাজ সম্পন্ন হয় অটোফ্যাগোজোম নামে বিশেষ কাঠামোর মাধ্যমে। এরা ক্ষতিগ্রস্ত উপাদানগুলোকে ঘিরে ফেলে এবং পরে লাইসোজোম-এ পাঠিয়ে ভেঙে ফেলে। না খেয়ে থাকার সময় এই অটোফ্যাগোজোম তৈরির হার হঠাৎ বেড়ে যায়, এমনকি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মস্তিষ্কের কিছু অংশে এ সংখ্যা ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে দেখা গেছে।
মস্তিষ্কে অটোফ্যাজির একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে— এটা নির্বিচারে নয়, বরং কেবল ত্রুটিপূর্ণ প্রোটিন, পুরোনো মাইটোকনড্রিয়া বা জমে থাকা বর্জ্যই অপসারণ করে; সুস্থ অংশগুলো অক্ষত রাখে। এতে বোঝা যায়, কোষের ভেতর অত্যন্ত সূক্ষ্ম মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কাজ করছে।